এনসিপি নেতা ও নোয়াখালী -৬ (হাতিয়া) আসনের সাংসদ হান্নান মাসউদের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য ও নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ একরামুল করিম চৌধুরীকে বিমানবন্দর পর্যন্ত পৌঁছে দিতে ৩ কোটি টাকা দাবির তথ্য ফাঁসকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের নেতা আব্দুল গাফফারের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে।
ছাত্রদল নেতা আব্দুল গাফফার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এবং হাতিয়া উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের ৮নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম বড় দেইল গ্রামের মাওলানা মোছলেহ উদ্দিনের ছেলে।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাতে হাতিয়ার বুড়িরচর ইউনিয়নের ৮নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম বড় দেইল গ্রামে গাফফারের পৈতৃক বাড়িতে এ হামলার ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই হাতিয়া উপজেলা ছাত্রদল স্থানীয় সাগরিয়া বাজারে এ হামলা-ভাঙচুরের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেন। তারা হামলার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে।
ছাত্রদল নেতা আব্দুল গাফফার বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় হান্নান,রিফাত ও মাহিম সেইফ হোমে ছিল। তখন আমিই হান্নান মাসউদকে সেইফ করছি। তখন তাদের সব গুলো ভিডিও থেকে সব কাজ আমি করে দিতাম। হাতিয়ার রাজনীতিতে তাকে আমিই প্রতিষ্ঠিত করছি। তার কারণে হান্নানের সাথে আমার ভালো সম্পর্ক গড়ে উঠে। তার রাজনৈতিক গার্ডিয়ান হিসেবে ৫ আগস্টের পর দেড় মাস আমি তার সাথে ছিলাম। যার কারণে তার অনেক কিছু আমি জানি। ৫ আগস্টের পর তিনি নোয়াখালী-৪ (সদর-সুবর্ণচর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ একরামুল করিম চৌধুরীকে বিমানবন্দর পৌঁছে দিতে পরিকল্পনা করেন। এজন্য তিন কোটি টাকা দাবি করেন। তখন এতে আমি বাধা দেয়।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, হান্নানের তিন কোটি টাকা দাবির এ ঘটনা গত বুধবার (৩ জুন) গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান বিএনপি নেতা মুহাম্মদ রাশেদ খাঁনকে জানাই। পরে এ নিয়ে তিনিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন। পরে আমি রাশেদ খাঁনের ফেসবুক স্ট্যাটাসটি আমার ফেসবুক ওয়ালে শেয়ার করি। এ ঘটনার পর থেকে হান্নান মাসুদ আমার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। এরপর থেকে তার অনুসারীরা আমাকে ফেসবুকে নানা রকম হুমকি ও গালাগাল দিতে থাকে। একপর্যায়ে হান্নান মাসউদকে তার অনুসারীদের আমাকে হুমকি দেওয়ার বিষয়টি জানাই। তিনি বলেন, তার ওই সব লোকজন তার নিয়ন্ত্রণে নেই। তারা তার কথা শুনেনা। তারা যা করার করুক।
ছাত্রদল নেতা গাফফার অভিযোগ করে আরও বলেন, সাবেক এমপি একরামুল করিম চৌধুরীকে বিমানবন্দর পর্যন্ত পৌঁছে দিতে ৩ কোটি টাকা দাবির তথ্য ফাঁসের জেরে হান্নানের যোগসাজশে তার অনুসারীরা আমার বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর চালায়। ওই সময় হামলাকারীরা আমাদের ভবনের একটি জানালা ভাঙচুর করে, প্রধান ফটকে হামলা করে। পরবর্তীতে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করে চলে যায়। আমার বৃদ্ধ মা জান্নাত আরা বেগম (৬০) ও বাবা মোছলেহ উদ্দিন (৬৯) একাই বাড়িতে থাকেন। তারা এখনও ভয়ে আছে। মা-বাবা বলছে আমি যেন আর কোন বক্তব্য না দেয়। আবারও তারা বাড়িতে হামলার আশঙ্কা করছে।
হাতিয়া উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক সামছুল কিবরিজ বলেন, ছাত্রদল নেতা গাফফার দৃঢ়ভাবে বলছে এটা এনসিপির নেতাকর্মি করেছে। তাহলে আমরা ধরে নেব, তারা নিজেরাই ভাইরাল হওয়ার জন্য এ ঘটনা ঘটিয়েছে। স্থানীয় এমপি মুঠোফোনে আমাকে বিষয়টি অবহিত করলে আমি ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে বিএনপির নেতাকর্মিরা একটি অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদ বলেন, আমার নিজের বাড়িতে হামলা হয়। আমি সে গুলো ট্যাকেল দিয়ে উঠতে পারিনা। আমি আরেকজনের বাড়িতে হামলা করব। পুরোপুরি একটা সাজানো নাটক করা হয়েছে। যাতে করে আমাকে হেয় করা যায়। চেষ্টা করে যাক, দেখা যাক কি করতে পারে।
এ বিষয়ে হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন বলেন, গ্রামের বাড়িতে একতলা ভবন। ওই ভবনের দক্ষিণ পাশে অন্ধকার, ওই দিক থেকে কেউ একজন ঢিল মারছে। ইটের টুকরা এসে পড়লে জানালার অংশ বিশেষ ভেঙ্গে যায়। কে মারছে কাউকে দেখা যায়নি। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। এ ঘটনায় এখনো কেউ কোন লিখিত অভিযোগ করেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঈদুল আজহার ছুটি শেষে রাজধানীমুখী মানুষের চাপ বাড়ায় সিরাজগঞ্জের যমুনা সেতুর পশ্চিম সংযোগ মহাসড়ক ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক যানজট সৃষ্টি হয়েছে। পর্যাপ্ত যানবাহন না পাওয়া, দীর্ঘ সময় অপেক্ষা, অতিরিক্ত ভাড়া এবং ট্রেনের বিলম্বের কারণে শ্রমজীবী ও কর্মজীবী যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। শুক্রবার (৫ জুন) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কড্ডার মোড় এলাকায় এই চিত্র দেখা যায়।
যমুনা সেতুর পশ্চিম প্রান্তের কড্ডার মোড় এলাকায় ঢাকামুখী যাত্রীরা দীর্ঘ সময় গাড়ির অপেক্ষায় ছিলেন। বাস ও পর্যাপ্ত গণপরিবহন না থাকায় অনেকে বিকল্প পরিবহনের দিকে ঝুঁকেছেন। তবে ভাড়ার অস্বাভাবিক চাপও তাদের সমস্যায় ফেলেছে।
চন্দ্রা এলাকার একটি গার্মেন্টে কর্মরত যাত্রী সাজ্জাদ হোসেন জানান, সকাল থেকে পরিবার নিয়ে ঢাকায় ফেরার অপেক্ষায় থাকলেও তিনি এখনো গাড়ি পাননি। তিনি বলেন, ‘ট্রাকে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা ভাড়া চাইছে, বাসে ৭০০-৮০০ টাকা। কিন্তু ব্যাগ থাকায় অনেক বাস নিতে চাইছে না।
একই স্থানে প্রায় ছয় ঘণ্টা অপেক্ষার কথা জানান আরেক যাত্রী আয়েশা সিদ্দিকা। তিনি বলেন, ‘মিরপুর যাওয়ার জন্য সকাল থেকে বসে আছি। এখন ভাড়াটা বিষয় না, সিটই পাওয়া যাচ্ছে না।’
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই পরিস্থিতিতে কড্ডার মোড় এলাকায় শত শত যাত্রী একই ধরনের দুর্ভোগে পড়েন।
যমুনা সেতু পশ্চিম সংযোগ মহাসড়কে ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত ঢাকামুখী লেনে দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়। সেতুর পশ্চিম গোলচত্বর থেকে কামারখন্দ উপজেলার ঝাঐল পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজট ছড়িয়ে পড়ে। দুপুরের পর ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক হলেও গতি ছিল ধীর।
যাত্রীরা জানান, স্বাভাবিক সময়ে যেখানে ঢাকায় পৌঁছাতে আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা লাগে, সেখানে এবার যাত্রা অনেক দীর্ঘ হয়ে পড়েছে। পাবনার বেড়া থেকে ঢাকাগামী যাত্রী খাইরু গণমাধ্যমকে বলেন, ‘সকাল ৯টায় রওনা দিয়ে যমুনা সেতু পার হলাম বিকেল ৪টার দিকে। এখনো ঢাকায় পৌঁছানোর সময় নিশ্চিত নয়।’
ঈদযাত্রায় তীব্র যানজট, অতিরিক্ত ভাড়া ও দুর্ভোগে হাজারো যাত্রী।
সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতু বলেন, ‘কয়েকটি যানবাহন বিকল হয়ে পড়ায় সাময়িক যানজট তৈরি হয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে পুলিশ কাজ করছে এবং যাত্রীরা যাতে নির্বিঘ্নে কর্মস্থলে ফিরতে পারেন, সে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’
রেলপথেও একই চিত্র দেখা গেছে। কামারখন্দ উপজেলার জামতৈল রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার আব্দুর রহমান বলেন, ‘ঢাকাগামী বেশ কয়েকটি ট্রেন নির্ধারিত সময়ে ছেড়ে যেতে পারেনি। কিছু ট্রেন দেড় থেকে দুই ঘণ্টা দেরিতে চলাচল করছে।’
জামতৈল স্টেশনে অপেক্ষমাণ যাত্রী শামছুল আলম জানান, ট্রেন ধরতে দুপুরের পর থেকে স্টেশনে এসে অপেক্ষা করছেন। কিন্তু বিলম্বের কারণে ঢাকায় পৌঁছানোর সময় নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তিনি।
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে যাত্রীবাহী বাস নদীতে ডুবে যাওয়ার ঘটনায় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
শুক্রবার (৫ জুন) বিকেলে দুর্ঘটনাকবলিত দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরিঘাট এলাকা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান। এ সময় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, বিআইডব্লিউটিসি, বিআইডব্লিউটিএ, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন এবং পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।
দুর্ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, বাসটির মূলত যে ফেরিতে ওঠার কথা ছিল, সেটিতে না উঠে সেটি দ্রুতগতিতে পাশে দাঁড়িয়ে থাকা অন্য একটি ফেরির ঢালায় সজোরে আঘাত করে। এর ফলে ফেরির ঢালা ভেঙে বাসটি সরাসরি নদীতে পড়ে যায়। ঘাটে বা ফেরি ব্যবস্থাপনায় কোনো ধরনের ত্রুটি বা অব্যবস্থাপনা ছিল কি-না, তা জেলা ও পুলিশ প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সবাই খতিয়ে দেখছে। তবে প্রাথমিকভাবে দৃশ্যমান কোনো অব্যবস্থাপনা বা ত্রুটি তাঁদের নজরে আসেনি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী একটি বড় ধরনের প্রাণহানি থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী নির্দেশনার কারণেই ফেরিতে ওঠার আগে বাস থেকে সব যাত্রীকে নামিয়ে দেওয়া হয়, যার ফলে আজ একটি ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে। বাসে অনেক সময় অসুস্থ, বৃদ্ধ ও শিশু যাত্রী থাকার কারণে তাদের নামানো বেশ কষ্টসাধ্য হলেও প্রশাসন এই নিয়মটি শতভাগ বাস্তবায়নের চেষ্টা করে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, আজকের এই দুর্ঘটনার মাধ্যমে এটি প্রমাণিত হয়েছে, দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বাস থেকে শতভাগ যাত্রী নামিয়ে ফেরিতে পার করার এই নিয়মটি কঠোরভাবে প্রতিপালন করা হচ্ছে।
নদী থেকে বাসটি উদ্ধার করার পর দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে জোর দেওয়া হচ্ছে। প্রতিমন্ত্রী জানান, বাসের চালক ও হেলপার সুস্থ হয়ে উঠলে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এর মাধ্যমে গাড়ির যান্ত্রিক ত্রুটি, চালকের অসতর্কতা কিংবা ফিটনেসের কোনো সমস্যা ছিল কি-না, তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখে তদন্ত কমিটিগুলো দ্রুত প্রতিবেদন জমা দেবে।
দেশজুড়ে যখন মধুমাসের ফল লিচুর সুবাস ছড়াচ্ছে, ঠিক তখনই পাবনার ঈশ্বরদীর লিচু চাষিদের চোখে-মুখে চরম বিষাদের ছায়া নেমে এসেছে। এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলন অত্যন্ত ভালো হয়েছিল এবং চাষিরা লাভের বড় স্বপ্ন বুনেছিলেন।
কিন্তু শেষ মুহূর্তে এসে তীব্র তাপপ্রবাহ আর অনাবৃষ্টি সেই স্বপ্নে জল ঢেলে দিয়েছে। কড়া রোদের কারণে গাছে থাকা লিচুর চামড়া পুড়ে কালচে ও বিবর্ণ হয়ে যাচ্ছে।
সারাদেশের মধ্যে দিনাজপুরের পরেই লিচুর জন্য বিখ্যাত পাবনার ঈশ্বরদী। বর্তমানে এই উপজেলায় রসালো বোম্বাই লিচু সংগ্রহ ও বাজারজাতকরণের ধুম চলছে। ঈশ্বরদীর বৃহৎ লিচুর হাট জয়নগরে গিয়ে দেখা যায়, পাকা টকটকে রসালো লিচুর ডালি নিয়ে সারি সারি চাষি বসে আছেন। তবে বাজারের এক কোণায় লক্ষ্য করা গেছে রোদে চামড়া পুড়ে যাওয়া কালচে লিচুর স্তূপ।
হাটে যেখানে ভালো মানের সেরা বোম্বাই লিচু প্রতি হাজার ২০০০ থেকে ২৫০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, সেখানে এই বিবর্ণ লিচুর দাম মিলছে মাত্র ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা।
লিচু চাষি নাজমুল হোসাইন ও আব্দুল্লাহ আল কাফি ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, প্রচণ্ড গরমের কারণে লিচু শুধু কালচে হচ্ছে না, গাছ থেকে ঝরেও পড়ছে। এই দাগি লিচুর কোনো ক্রেতা নেই, বাধ্য হয়ে খরচের টাকা তুলতে পানির দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
ঈশ্বরদী আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, গত কয়েকদিন ধরে এই অঞ্চলে তাপমাত্রা ৩৫ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। পাবনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর প্রমানিক বলেন, ‘হঠাৎ এই তীব্র বৈরী আবহাওয়ার কারণে কৃষকেরা বাজারে লিচুর আশানুরূপ দাম পাচ্ছেন না, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।’
‘নিজের আঙিনা নিজে পরিষ্কার রাখি’‘সুন্দর ও সুস্থ বাংলাদেশ গড়ি’ —এই প্রতিপাদ্যকে হৃদয়ে ধারণ করে ৫ জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৬ উপলক্ষে পিরোজপুরে সপ্তাহব্যাপী বিশেষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে।
শুক্রবার (৫ জুন) সকালে পিরোজপুর জেলা পরিষদের উদ্যোগে শহরের একটি গুরুত্বপূর্ণ পুকুর পরিষ্কারের মধ্য দিয়ে এই মানবিক কার্যক্রমের সূচনা হয়। কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করেন পিরোজপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ, স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।
উদ্বোধনী বক্তব্যে অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন পুকুরটির ঐতিহাসিক ও সামাজিক গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “জনসাধারণের কাছে এটি ‘হুজুরের বাড়ির পাশের পুকুর’ হিসেবে পরিচিত। পৌরসভা এলাকার কেন্দ্রে অবস্থিত হওয়ায় স্থানীয় বহু মানুষ দৈনন্দিন প্রয়োজনে এটি ব্যবহার করেন। দীর্ঘদিনের অযত্ন ও অবহেলায় জলাশয়টি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় আমরা পরিবেশ রক্ষা ও জনস্বার্থ বিবেচনায় এটি পরিষ্কারের বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছি”।
তিনি আরও বলেন, “পরিবেশ দূষণ রোধে আমাদের সচেতনতা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টাই বড় শক্তি। নিজেদের আঙিনা পরিষ্কার রাখার দায়িত্ব আমাদের সবার। আমরা পর্যায়ক্রমে জেলা পরিষদের নিয়ন্ত্রণাধীন জেলার সবকটি পুকুর পরিষ্কার ও দূষণমুক্ত করার কাজ সম্পন্ন করবো”।
পুকুর পরিষ্কারের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে এলাকার সাধারণ জনগণ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জেলা পরিষদ প্রশাসককে ধন্যবাদ জানান।তারা বলেন এই পুকুরটি পরিষ্কার হলে প্রায় এক হাজার পরিবার পুকুরের পানি ব্যবহার করে উপকৃত হবে।
উল্লেখ্য, বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে সপ্তাহব্যাপী এই বিশেষ অভিযানের আওতায় পিরোজপুর জেলা পরিষদের নিয়ন্ত্রণাধীন মোট ১১২টি পুকুর পর্যায়ক্রমে সংস্কার ও পরিষ্কার করা হবে।
একসময় মনের ভাব প্রকাশ করা এবং যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম ছিল চিঠি। আর সেই চিঠি আদান প্রদানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে ছিল লাল রঙের পোস্ট বাক্স। শহর থেকে গ্রাম সবখানেই দেখা যেত ডাক বিভাগের এসব পোস্ট বাক্স। মানুষ প্রিয়জনের খোঁজ খবর নিতে সুখ দুঃখের কথা ও জরুরী বার্তা পৌঁছে দিতে একমাত্র মাধ্যম হিসেবে পোস্ট বাক্স ব্যবহার করত। মনের ভাব প্রকাশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম ছিল চিঠি।
আর সেই হাতে লেখা চিঠি হলুদ খামে ভরে আঠা লাগিয়ে মুখ বন্ধ করে ফেলা হত লাল রঙের পোস্ট বাক্সে। বর্তমানে আধুনিকতার ছোঁয়ায় ও প্রযুক্তির অগ্রগতির ফলে মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যাপক ব্যবহারে চিঠি লেখার প্রচলন অনেকটাই কমে গেছে। ফলে আগের মত পোস্ট বাক্স এখন আর দেখা যায় না। যা দুই একটা দেখা যায় সেগুলোর করুন অবস্থা।
চিঠির আদান-প্রদান মানব সভ্যতার খুবই প্রাচীন একটি যোগাযোগ পদ্ধতি। ঐতিহাসিকদের মতে, প্রায় ৫ হাজার বছর আগে প্রাচীন মেসোপটেমিয়া এবং মিশর অঞ্চলে লিখিত বার্তা আদান-প্রদান শুরু হয়। তখন মাটির ফলক, প্যাপিরাস বা অন্যান্য উপকরণের মাধ্যমে চিঠির প্রচলন শুরু হয়েছিল। পরবর্তীতে সংগঠিত ডাক ব্যবস্থার সূচনা হয় প্রাচীন পারস্য সাম্রাজ্যে প্রায় খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতকে। প্রাচীনকালে বাংলায় এবং ভারতীয় উপমহাদেশে কবুতরের পায়ে চিঠি বেঁধে বার্তা আদান-প্রদানের ব্যবস্থা ছিল যার নাম ছিল "পাইরা ডাক " ব্যবস্থা।
পরবর্তীতে মানুষের প্রয়োজনে এবং আধুনিকতার ছোঁয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থার একমাত্র মাধ্যম হিসেবে পোস্ট বাক্সকে বেছে নেওয়া হয়। আধুনিক ডাক ব্যবস্থার ভিত্তি গড়ে ওঠে প্রায় ২৫০০ বছর আগে। বর্তমানে সেটাও এখন বিলীনের পথে। আগে পোস্ট বাক্সে হাত দিলে থরে থরে উঠে আসতো চিঠি। একজন পোস্টম্যান কাঁধে ব্যাগ ঝুলিয়ে সাইকেলে করে চিঠি গুলো পৌঁছে দিতেন ঘরে ঘরে। কিন্তু বর্তমানে বিজ্ঞানের আমূল পরিবর্তন হওয়ায় হারিয়ে যাচ্ছে চিঠি লেখার সেদিনগুলি।
তাইতো কালের সাক্ষী হয়ে অবহেলায় জরাজীর্ণ অবস্থায় এখনো দাঁড়িয়ে আছে মাগুরা সদরের প্রধান ডাক ঘরের সামনে লাল পোস্ট বাক্স টি। আবার কিছু কিছু এলাকায় ডাক বাক্স সংরক্ষণ করা হয়েছে ঐতিহ্যের স্বারক হিসেবে।
স্থানীয় প্রবীণরা জানান, একসময় পোস্ট বাক্স ছিল মানুষের আবেগ অনুভূতি প্রকাশের একমাত্র মাধ্যম। ডাক পিয়োনের অপেক্ষায় দিন গুণতেন অনেকেই। বর্তমান প্রজন্মের কাছে পোস্ট বাক্সের গুরুত্ব কমে গেলেও এটিকে দেশের ডাক ব্যবস্থার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে টিকিয়ে রাখতে হবে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষরা মনে করেন, পুরনো পোস্ট বাক্স গুলো সংরক্ষণ করা হলে নতুন প্রজন্ম দেশের পুরাতন যোগাযোগ ব্যবস্থার ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারবে এবং অতীতের স্মৃতিকে কাছ থেকে অনুভব করতে পারবে।
মাগুরার প্রধান ডাকঘরের পোস্টমাস্টার মুকুল চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, প্রযুক্তির কারণে এখন চিঠি লেখা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। অফিসিয়ালি কিছু চিঠি কাউন্টারে জমা হয় কিন্তু পোস্ট বাক্সে সাধারণ চিঠি আসার কথা থাকলেও তেমন একটা আসে না।
মাগুরা প্রধান ডাকঘরের একাউন্টেন্ট কামরুজ্জামান জানান, এখন বেশি রেজিস্ট্রি চিঠি আসে। সাধারণ চিঠি আসে না। আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় মনের ভাব আর আগের মতো প্রকাশ হয় না।আগে যেমন মানুষ অনেকদিন পর পর চিঠির মাধ্যমে একে অপরের খবর নিত এখন আর সেগুলো হয় না। হাতে হাতে মোবাইল ফোন চলে আসায় আগের মত মানুষে মানুষে সেই আন্তরিকতা এখন আর খুব একটা দেখা যায় না।
বর্তমানে শিশুদের কাছে ডাক বাক্স সম্পর্কে প্রশ্ন করলে তারা বলতে পারেনা এটা কি। তাই স্থানীয়দের দাবি, হারানো ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে মাগুরার ডাকবাক্স সহ অন্যান্য জায়গার ডাকবাক্স গুলো নতুন করে সংরক্ষণ করা হোক। যেন নতুন
প্রজন্মরা এটা দেখে যোগাযোগ ব্যবস্থার পুরনো ইতিহাস সম্পর্কে জানার আগ্রহ প্রকাশ করে।
সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে বাস চাপায় স্বামী স্ত্রীসহ অটোভ্যানের তিন যাত্রী নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো একজন। শুক্রবার ( ৫ জুন ) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার মেঘুল্লা বাসস্ট্যান্ড এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন, বেলকুচি উপজেলার আজুগরা হেজুলতলা গ্রামের ফজিলা খাতুন (৪৫), তার স্বামী মোতালেব সরকার (৫৫) এবং অটোভ্যান চালক নরুল হক (২৯)। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হন নিহত দম্পতির মেয়ে তামান্না খাতুন (১৩)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ঢাকা এক্সপ্রেস পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস মেঘুল্লা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি অটোভ্যানকে চাপা দিলে অটোভ্যানটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলে তিন জন নিহত হয়।
এ বিষয়ে বেলকুচি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইমাম জাফর বলেন, সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে হঠাৎ অটোভ্যানের এক্সেল ভেঙে যাওয়ায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ঢাকা এক্সপ্রেস বাসের সামনে গিয়ে পড়ে। মূহূর্তে বাসটি অটোভ্যানকে চাপা দিলে তিন যাত্রী নিহত হয়।
তিনি জানান, এ ঘটনায় আহত হয় তামান্না খাতুন নামে এক যাত্রী। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নিহতের মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণে কিছু সময়ের জন্য সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
মন্তব্য